সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সিরাজী সড়কে মায়ের সাথে অভিমান করে সুপ্রীতি সুত্রধর নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তবে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাহিত করতে মেয়ের পরিবার কৌশলি ভুমিকা নিয়ে উৎসব কুন্ডু নামে এক শিক্ষার্থীকে ফাসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানাযায়, গত ৪ ফেব্রুযারি রাত সারে ১১ টার দিকে সিরাজী সড়কে গোপাল কুন্ডুরপিছনের ভবনের ৫ তলা ফ্লাটের স্কুল শিক্ষক বাবলু সুত্রধরের মেয়ে সুপ্রীতি সুত্রধর ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের লোকজন নিজেরাই ঐ মেয়েকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এই ঘোষনার পরেই বাবলু সুত্রধর তার আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে একই ভবনে থাকা ১ম তলা ফ্লাটের দুলাল কুন্ডুর বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাংচুর ও লুটপাট করায়। তাদের অভিযোগ দুলাল কুন্ডুর ছেলে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উৎসব কুন্ডুর সাথে প্রেমের সম্পর্কের টানাপরেনের অভিমানে সুপ্রীতি আত্মহত্যা করেছে। ঐ রাতেই বাবলু সুত্রধর তাদের আত্মীয় স্বজন নিয়ে সিরাজী সড়কে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ এসে পরিবেশ নিয়ন্ত্রন করে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষার্থী উৎসব কুন্ডু কে আটক করে নিয়ে যায়। তবে ঐ ফ্লাটে থাকা একাধিক পরিবারের মানুষ অভিযোগ করে বলেছেন প্রেম নয় মায়ের সাথে অভিমান করে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। সরস্বতী পুজার দ্বিতীয় দিন রাতে বড় মেয়েকে রেখে ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বের হয় তার মা, হয়তো এই রাগে অভিমানি মেয়েটি একটি চিরকুট লিখে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে উৎসব কুন্ডুর সাথে প্রেমের একটা গল্প তৈরি করে মায়ের সাথে অভিমানের বিষয়টি ধামাপাচা দিতেবিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে ফাসানোর চেষ্টা করছে। ঐ চিরকুটে কি লেখা ছিলো সেটা জানা গেলেই এই আত্মহত্যার মুল ঘটনা বের হবে। এমনকি ঐ চিরকুটের প্রথম লাইলে ”মা আমাক তোমরা কেউ বুঝলা না” এমন কথা লেখা ছিলো বলে জানিয়েছে ঐ ফ্লাটের এক ভাটাটিয়া।
উৎসব কুন্ডুর বাবা দুলাল কুন্ডু জানান, সরস্বতী পুজার রাতে আমরা পুজা দেখে বাড়িতে এসে জানতে পারি এই ঘটনা ঘটেছে। এর পর কিছু বুঝার আগেই একদল যুবক এসে আমার ছেলেকে খুজতে থাকে, তারা ঘড়বাড়ি ভাংচুর করে, ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় এমসয় আমার স্ত্রী কে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সে অসুস্থ হয়ে পরে। এরপর পুলিশ এসে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। সে এখন কারাগারে। একদিকে স্ত্রী অসুস্থ অন্যদিকে ছেলে কারাগারে তাই কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না। আমার বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনি ব্যবস্থা নিবো। তিনি আরো বলেন, যে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে সেটা মিথ্যা এবং বানোয়াট। কারন ঐ মেয়ে আত্মহত্যা করার আগের ঘটনা কাকে বলে গেছে, কে জানে এই ঘটনা? মুল কারন হলো মেয়েটির লেখা চিরকুট। ঐ চিরকুটে নাকি মা কে দায়ী করে আত্মহত্যা করেছে এটি লেখা ছিলো বলে জানিয়েছে ফ্লাটের একাধিক ভাড়াটিয়া। এই মামলায় দ্বিতীয় আসামী করা হয়েছে আমার ভাতিজা ব্যবসায়ী সুশান্ত কুন্ডু শান্তকে। পুর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকেও ফাঁসানো হয়েছে। আমি পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করে বলতে চাই এই ঘটনার একটা সুষ্ঠ তদন্ত করে যারা প্রকৃত দোষী,যার কারনে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে তাদের আইনের আওতায় আনাহোক।
এ বিষয়ে সুপ্রীতির বাবা বাবলু সুত্রধর জানান পুজা দেখে বাড়িতে এসে মেয়েকে ঝুলে থাকা অবস্থায় পাই এরপর বন্ধু বান্ধব আত্নীয় স্বজনদের ডেকে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। চিরকুট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এরিয়ে গিয়ে বলেন মেয়ে তার ডায়েরিতে অনেক আবেগ প্রবন লেখা লিখেছে, ম্যাসেঞ্জারেও লিখেছে, ঐ সময় আমার মন ভালো ছিলো না, চিরকুট কোথায় রেখেছে আমি দেখি নাই জানিও না। তবে ফ্লাটের অনেকেই অনেক কথা বলছে, চিরকুটের কথাও বলছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন